স্টাফ রিপোর্টার(বিবিনিউজ): ঢাকার ধামরাইয়ের সোমভাগ ইউনিয়নের গোয়ালদী গ্রামের বাসিন্দা ও ভালুম আতাউর রহমান খান ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো. আওলাদ হোসেন দীর্ঘ ২৮ বছর অপেক্ষার পর প্রয়াত পিতার স্বপ্ন পূরণ করেছেন। এবারের দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে তিনি সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তার পিতার স্বপ্ন পূরণ করলেন।
উপজেলায় অনুষ্ঠিত ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীকে সর্বাধিক ভোট পেয়ে তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তিনি পেয়েছেন ১৩ হাজার ৫১ ভোট আর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আজাহার আলী পেয়েছেন মাত্র ৫ হাজার ১৩৬ ভোট।
প্রভাষক আওলাদ হোসেনের প্রয়াত পিতা ব্যবসায়ী মো. আব্দুল গফুর তিনবার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে একবারও জয়ের মুখ দেখতে পারেননি। তিনটি নির্বাচনেই তিনি অল্প কিছু ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। প্রথম নির্বাচনে ১৭৮ ভোট, দ্বিতীয় নির্বাচনে ১০৭ ভোট ও তৃতীয় নির্বাচনে মাত্র ২৮ ভোটে পরাজয় বরণ করেন। এ অতৃপ্ত যন্ত্রণা বুকে নিয়ে প্রভাষক আওলাদ হোসেনের পিতা মৃত্যুবরণ করেন।
এরপর থেকে আওলাদ হোসেনের মিশন ছিল পিতার স্বপ্ন পূরণের। তিনি ছাত্রলীগে যোগদান করেন। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা শেষ করে ভালুম আতাউর রহমান খান ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি শিক্ষাদানের পাশাপাশি সামাজিক কাজ ও রাজনীতি করে কাটিয়ে দেন দীর্ঘ ২৮ বছর। এরপর ব্রত হন পিতার স্বপ্ন পূরণের। তবে দলীয় মনোনয়ন চেয়েও তিনি মনোনয়ন পাননি। পরে তিনি জনগণের ভালোবাসাকে পুঁজি করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে লড়েন এবং ১১ নভেম্বর তিনি সর্বাধিক ভোট পেয়ে প্রয়াত পিতার স্বপ্ন পূরণ করেন।
প্রভাষক আওলাদ হোসেন বলেন, জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসায় আমি আমার প্রয়াত পিতার স্বপন্ পূরণ করতে পেরেছি। আমি তাদের কোনদিন ভুলব না। আমি জনগণের জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করতে চাই। যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন জনগণের ভালোবাসাকে বুকে লালন করেই বেঁচে থাকব।য়।
